হয়রানি/Harassment, নিপীড়ন বন্ধের জন্য করণীয়

হয়রানি/Harassment 

হয়রানি বা নিপীড়ন আক্রমণাত্মক.আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ইহা সাধারনত সেই সকল আচরণকে বোঝায় যার দ্বারা কেউ অস্বস্থি বা বিচলিত বোধ করে এবং তার পুনরাবৃত্তি করা হয়।আইনী বোধে যার দ্বারা কাউকে পীড়া দেওয়া বা ভীতিপ্রদর্শন করাকে বোঝানো হয়। যৌন হয়রানির শিকার ব্যাক্তির নিকট যৌন হয়রানি নাছোড়বান্দা আর অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতার দিকে অগ্রসর করে, বিশেষত কর্মক্ষেত্রে, যেখানে অস্বীকার করার পরিণাম হচ্ছে সম্ভাব্য অসুবিধা।

যৌন নিপীড়ন বন্ধের জন্য করণীয়

 
জনসমাগমস্থল বা পাবলিক প্লেসে নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ও ভয়াবহতা বাড়ছে। তাঁরা রাস্তায়, বাসে, কর্মক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনার শিকার হন। প্রতিরোধে দরকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট আইন। পাশাপাশি, যৌন শিক্ষাও জরুরি।

আজ শনিবার রাস্তায় যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে করণীয় কৌশলবিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে এর আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)।

বক্তারা বলেন, একটা মেয়ে রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হলে কী করতে হবে, বুঝতে পারে না। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। আবার অনেক সময় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হয়। অনেক সময় পুলিশও নারীদের যৌন হয়রানি করে। এমনকি নারী পুলিশও তেমন সহায়ক নয়।

অনুষ্ঠানে সামাজিক ও আইনিভাবে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের বিষয়ে দুটো পৃথক উপস্থাপনা ছিল। সামাজিকভাবে রাস্তায় যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের বিষয়টি উপস্থাপনা করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার কোহিনূর আক্তার। এতে বলা হয়, প্রথমত দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নমূলক প্রতিরোধের জন্য দরকার পাঠ্যপুস্তকে জেন্ডার বিষয়কে সম্পৃক্ত করা। দ্বিতীয়ত, শহরে বৈদ্যুতিক বাতি ও সিসিটিভির সংখ্যা বাড়ানো। তৃতীয়ত, নারীদের নিরাপত্তায় কমিউনিটি মানুষের নজরদারি বৃদ্ধি।

অন্য উপস্থাপনায় তরুণ আইনজীবী মুনতাসীর মাহমুদ রহমান যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে নির্দিষ্ট আইন থাকার ওপর জোর দেন। আইন থাকলে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হয়। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও কমে।

এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য নীলিমা আক্তার বলেন, শুধু রাস্তায় নয়, ঘরেও মেয়েরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নানা অপরাধে এ আড়াই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক, একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরি গেছে। তাঁরা শুধু ছাত্রী নয়, নারী শিক্ষকদেরও বিভিন্ন সময় হয়রানি করেছেন।

নীলিমা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পয়লা বৈশাখে নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ছিল পরিকল্পিত, সংস্কৃতির ওপর আঘাত। সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩২ থেকে ৮টা পর্যন্ত অসংখ্য নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহনাজ হুদা বলেন, নানা কাজে মেয়েদের বাইরে আসতে হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসঃ সুবিধা ও অসুবিধা

খনিজ কি? খনিজের বৈশিষ্ট্য লেখ?

বিশ্বায়ন/আন্তর্জাতিকরণ/Globalization / Internationalization কী?