হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ট্যুরিজম

 হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ট্যুরিজম

 

পর্যটন শিল্প এখন রমরমা। দেশে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-মোটেল। বাড়ছে দক্ষ কর্মীর চাহিদা। দেশের বাইরেও আছে লোভনীয় চাকরির হাতছানি। তাই এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হতে পারেন হোটেল ম্যানেজমেন্টে। পর্যটন বিষয়ে পড়তে চাইলে এইচএসসি পাস এবং ভালো ইংরেজি বলায় পটু হতে হবে। সৌন্দর্যের চেয়ে এখানে ভালো কাজ জানাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারকা হোটেলগুলোর কিছু কিছু বিভাগে শারীরিক গঠনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কী:

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট হলো পর্যটন ও সেবাবিষয়ক প্রায়োগিক জ্ঞানের পাঠ, যা বাণিজ্য অনুষদের অধীনে পড়ানো হয়। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারপারসন মুবিনা খোন্দকার বলেন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শুধু পর্যটন বা হোটেল ব্যবস্থাপনা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং একই সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে এই শিল্পের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করা হয় এতে। এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে পর্যটনশিল্প এগিয়ে নিতে সহায়তা করে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।

কেন পড়বেন:
পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন মুবিনা খোন্দকার। অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু উপস্থাপনের অভাবে বা প্রচার না থাকায় এই শিল্পে সম্ভাবনার আলো ফিকে হতে বসেছে। তাই ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পড়ার উপযোগিতা অনেক বেশি বলে মনে করেন বিভাগে সান্ধ্যকালীন এমবিএর শিক্ষার্থী আবু রায়হান।

কোথায় পড়বেন:
সরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্য অনুষদের অধীনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে বিবিএ, এমবিএ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করেছে। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও এ বিষয়ে চার বছরের অনার্স ও এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করিয়ে থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ট্যুরিজম ও হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ১৮ সপ্তাহের সার্টিফিকেট কোর্স এবং এক ও দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু রেখেছে।

পঠন পদ্ধতি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি বিবিএ প্রোগ্রামে আট সেমিস্টারে ১২৬ ক্রেডিট পড়ানো হয়। এ ছাড়া এক বছর মেয়াদি এমবিএ এবং দুই বছর মেয়াদি সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামে যথাক্রমে ৩৬ ও ৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে ১২০ থেকে ১৩৫ ক্রেডিটে পড়ানো হয় চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে।

যোগ্যতা:
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হতে প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের বিবিএ কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে প্রার্থীকে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে এইচএসসি পাসের পর কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীকে ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। আর এমবিএ করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধীন যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ ছাড়া বিবিএতে পেতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ জিপিএ স্কোর। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে রেগুলার এমবিএর ক্লাস। তবে যেকোনো বিষয়ে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি থাকলেই সান্ধ্যকালীন এমবিএতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন আপনি। চলতি মাসের ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে তিন ও চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে এমবিএ করতে পারবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীনে ১৮ সপ্তাহের সার্টিফিকেট কোর্স এবং এক ও দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা করতে এসএসসি ও এইচএসসি পাস হতে হবে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে।
খরচ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগুলার বিবিএ ও এমবিএর খরচ স্বভাবতই একটু কম। তবে দুই বছরের সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামে খরচ পড়বে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিলে এক বছরের ডিপ্লোমা করতে খরচ পড়বে ৩৫ হাজার টাকা। ইবাইসে চার বছরে দুই লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং প্রাইম এশিয়ায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়বে। আর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত ১৮ সপ্তাহের কোর্সে খরচ পড়বে ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া এক ও দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে খরচ পড়বে যথাক্রমে ৮০ হাজার ও দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা।

কর্মক্ষেত্রে সুযোগ:
বিশ্বায়নের জোয়ারে চাকরির বাজার এখন আর শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বাইরেও কাজের অবারিত সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থীদের এই সুযোগ আরও বেশি।

বিদেশে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা:
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পোল্যান্ড, সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমে পড়াশোনাসহ গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ রয়েছে। পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে এসব দেশে গড়ে উঠেছে প্রচুর হোটেল রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, ট্যুর কোম্পানি ও ট্রাভেল এজেন্সি। এসব দেশে এখনও দক্ষ পেশাজীবীর প্রচুর চাহিদা। এখনও পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল শিক্ষার পাশাপাশি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমে কাজ করার অফুরন্ত সুযোগ। তাই এসব দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী যাচ্ছে। আপনিও চাইলে প্রয়োজনীও শর্ত পূরণ করে যেতে পারেন এসব দেশে। আমাদের স্বপ্নের এ বাংলাদেশে ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টে ক্যারিয়ার দিন দিন বাড়ছে। আমাদের এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে আপনিও পারেন অবদান রাখতে।

ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসঃ সুবিধা ও অসুবিধা

খনিজ কি? খনিজের বৈশিষ্ট্য লেখ?

বিশ্বায়ন/আন্তর্জাতিকরণ/Globalization / Internationalization কী?