ডায়াবেটিস / Diabetic রোগীর ব্যায়াম-০২
ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০২
*
আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে তাপমাত্রাও মাথায় রাখার বিষয়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ব্যায়াম করবেন না কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রাতে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেই জন্য ভোর বা সন্ধ্যাতে ব্যায়াম করাই উত্তম।
ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য করা উচিত
জোরে জোরে হাঁটা উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। তবে পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখা ভালো।
*
যেমন হাঁটুতে যদি অস্টিওআর্থ্রাইটিস (এই বয়সে সাধারণত থাকে) থাকে, বা নার্ভের ক্ষতির কারণে পায়ে অনুভূতি কম থাকে তখন হাঁটলে হাঁটুর ব্যথা বাড়তে পারে বা পায়ে ফোসকা পড়ে ঘা হতে পারে।
*
হাঁটার সময় মাপসই আরামদায়ক জুতা তুলার মোজা ব্যবহার করবেন।
*
হাঁটার পর সব সময় পা পরীক্ষা করে দেখবেন যখনই পায়ে ফোসকা, কাটা, ব্যথা বা পা লাল হওয়া দেখবেন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
ব্যায়ামের কারণে কি ব্লাড সুগার কমে যেতে পারে
আপনি যদি ইনসুলিন নেন, সালফোনিউরিয়া বা মেগ্লিটিনাইড ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তবে ব্যায়ামের ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। একে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ
*
মাথা ঘোরা
*
নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া
*
ক্ষুধা লাগা
*
দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা
*
ঘাম হওয়া, মাথা ধরা ইত্যাদি
খুব বেশি কমে গেলে অজ্ঞান হয়ে ফিট হয়ে যেতে পারেন। যাদের একবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় তারা এর লক্ষণ আরম্ভ হলেই বুঝতে পারেন।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া পরিহারের উপায়
*
ব্যায়াম শুরু করার আগে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নেবেন। ১০০ মি.গ্রাম নিচে হলে অল্প কিছু খেয়ে নেবেন।
*
যদি ইনসুলিন নেন তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ব্যায়াম করার সময় পকেটে অল্প কিছু গ্লুকোজ, চিনি বা মিস্টি ফলের রস রাখবেন। খারাপ লাগা শুরু হলেই খেয়ে নেবেন।
*
যদি অনেকক্ষণ ব্যায়াম করতে হয় তবে ব্যায়াম শেষ করার আগেও কিছু খেয়ে নিতে পারেন।
*
ব্যায়ামের শেষে আবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন। তা থেকে কি পরিমাণ ব্যায়াম কতটুকু গ্লুকোজ কমায় সে ব্যাপারে ধারণা পাবেন।
*
একটু বেশি পানি খাবেন, ব্যায়াম শুরুর আগে, ব্যায়াম করার সময় বা পরে।
*
রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষার যন্ত্র কিনতে পারেন যার মাধ্যমে প্রতিদিন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
কায়িক পরিশ্রম বেশি হয় এমন কাজ নির্ধারণ করুন
*
বাসার কাজ নিজে করবেন, ঘর নিজেই পরিষ্কার করবেন
*
সময় থাকলে বাগান বা সবজি চাষ করবেন
*
হাট-বাজার নিজেই করবেন
*
লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন
*
অল্প দূরত্বে যানবাহন ব্যবহার না করে হাঁটবেন
*
অল্প দূরের কাজ টেলিফোনে না সেরে নিজে যাবেন
*
কাজের ফাঁকে ফাঁকে যেমন অফিস টিফিনের সময় গল্প-গুজবে, খাওয়াতে ব্যয় না করে একটু ঘুরে বেড়াবেন
*
বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করবেন
*
ব্যায়াম করার জন্য বন্ধু খুঁজে নেন। একা একা ব্যায়ামে গাফিলতি হলেও বন্ধুদের সঙ্গে ব্যায়াম করতে খারাপ লাগবে না।
*
কতটুকু ব্যায়াম করলেন বা কতটুকু এগোলেন তার রেকর্ড রাখুন। ব্যায়ামের লক্ষ্যে পৌঁছলে নিজের জন্য পুরস্কার ঠিক করে রাখুন, যেমন নির্দিষ্ট লক্ষে পৌঁছলে বেড়িয়ে এলেন বা নিজের জন্য কিছু একটা কিনলেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা হল ব্যায়াম চালিয়ে যাবেন। কখনই ছেড়ে দেবেন না। ব্যায়ামের সুফল পেতে হলে থামা চলবে না। অল্প কয়েক দিনে এর সুফল পাবেন না।
|
ডায়াবেটিস রোগীরা কেন ব্যায়াম করবেন ?
ডায়াবেটিস কি?
আমাদের শরীরে প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় নামে একটি অরগ্যান আছে যা থেকে তৈরি হয় ইনসুলিন নামের এক ধরনের হরমোন । এই হরমোনের কাজ হল রক্তের গ্লুকোজকে শরীরের কোষে ঢুকতে সাহায্য করা। আমাদের খাবার হজমের পর বেশির ভাগ গ্লুকোজ হিসেবে রক্তের মধ্য পৌছে যা ইনসুলিনের উপস্থিতিতে শরীরের বিভিন্ন কোষে কোষে যায় যা আমাদের কাজ করার শক্তি যোগায়। ইনসুলিন হরমোন যদি যথেষ্ট পরিমানে তৈরী না হয় বা সঠিক ভাবে কাজ না করতে পারে তাহলে রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে এক দিকে কোষগুলো গ্লুকোজের অভাবে কাজ করার শক্তি হারায় আর অন্য দিকে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যেতে থাকে। এই কারনে ঘন ঘন প্রসাব হয় ও শরীরের শক্তি হ্রাস পায়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ বলা হয়।
ডায়াবেটিস কয় ধরনের হয় ?
ডায়াবেটিস দুই প্রকার।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস
অল্প বয়েসে হয় এই ধরনের ডায়াবেটিস, এখানে একদমই ইনসুলিন তৈরি হয় না পানক্রিয়াসে। ফলে এই রোগিকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয় । তাই এদেরকে ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল ডায়াবেটিস মেলিটাস ও বলা হয়। এই ধরনের ডায়াবেটিস ৫% ভাগের মত ।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস
এখানে অগ্নাশয় ইনসুলিন হরমোন তৈরি করলেও তা যথেস্ট নয় বা বিভিন্ন কারনে ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। এই ধরনের ডায়াবেটিস ৯৫%
ডায়াবেটিসের চিকিৎসাঃ
- ব্যায়াম ও জীবনযাত্রা প্রনালীর পরিবর্তন - খাবার অভ্যাস পরিবর্তন ও - ঔষধ
ব্যায়ামঃ
রোগীর মনে প্রশ্ন হতে পারে রোজ জামা জুতো পরে ব্যায়াম করবো ? সময়ের অপচয় করব ? তার চেয়ে একটা ট্যাবলেট গিলে ফেললেই হল বা একটা ইনজেকশন নিলেই হবে। বাস্তবতা হল ব্যায়াম ঔষধের চেয়ে অনেক বেশী উপকারী। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ডায়াবেটিসের ফলপ্রদ ঔষধ মেটফরমিনের চেয়ে ব্যায়াম রক্তের গ্লকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে অনেক বেশী কার্যকর।
ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামে কি উপকার হয় ?
ডায়াবেটিসে ব্যায়ামের উপকার হলঃ-
-
ব্যায়ামে শক্তি খরচ হয় ফলে শরীরের ওজন কম থাকে ও শরীরে চর্বি কমে।
-
ব্যায়াম এর মাধ্যমে পেঙ্ক্রিয়াসের বেটা সেল থেকে ইনসুলিন তৈরি বৃদ্ধি পায়
-
ব্যায়াম ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ফলে শরীরে অল্প যা ইনসুলিন
তৈরি হয় তাতেই রক্তের গ্লূকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে বাড়তি ঔষধের দরকার নাও পড়তে পারে।
-
ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
-
ডায়াবেটিসের জটিলতা কমান সম্ভব হয়।
-
বায়াম রক্তের ভাল কোলেস্টেরল(HDL) বাড়ায় এবং খারাপ
কোলেস্টেরল(LDL) কমায়
-
ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমায়
-
ব্যায়াম দুশ্চিন্তা দূর করে মনকে সতেজ প্রফুল্ল রাখে।
-
ঘুম্ ভাল হয়
-
হাড় ও হৃৎপিন্ডকে শক্তিশালী করে।
-
জয়েন্ট গুলো কে সচল রাখে।
-
বৃদ্ধ বয়সে হাড়ভাঙ্গার একটা প্রধান কারন অস্টিওপোরসিস বা হাড় ক্ষয়
হয়ে যাওয়া বিশেষ করে মহিলাদের হিপ ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে । ব্যায়াম অস্টিওপোরসিস কমায় । |
Comments
Post a Comment