ডায়াবেটিক / Diabetic রোগীর ব্যায়াম-০১


ডায়াবেটিক রোগীর ব্যায়াম-০১


ডায়াবেটিক রোগীর মনে প্রশ্ন আসতে পারে প্রতিদিন কি জামা জুতা পরে ব্যায়াম করব? ব্যায়াম করে কি সময়ের অপচয় করব? তার চেয়ে একটা ট্যাবলেট গিলে ফেললেই হল বা একটা ইনজেকশন নিলেই হবে। বাস্তবতা হল ব্যায়াম ওষুধের চেয়ে অনেক উপকারী। পরীক্ষায় দেখা গেছে ডায়াবেটিসের ফলপ্রদ ওষুধ মেটফরমিনের চেয়ে ব্যায়াম রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বেশি কার্যকর।
ব্যায়ামে কী উপকার হয়
* ব্যায়ামে শক্তি খরচ হয় ফলে শরীরের ওজন কম থাকে শরীরে চর্বি কমে
* ব্যায়ামের মাধ্যমে প্যানক্রিয়াসের বেটা সেল থেকে ইনসুলিন তৈরি বৃদ্ধি পায়
* ব্যায়াম ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ফলে শরীরে অল্প যা ইনসুলিন তৈরি হয় তাতেই রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে ফলে বাড়তি ওষুধের দরকার নাও পড়তে পারে।
* ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
* ডায়াবেটিসের জটিলতা কমান সম্ভব হয়।
* ব্যায়াম রক্তের ভালো কোলস্টেরল (HDL) বাড়ায় এবং খারাপ কোলস্টেরল (LDL) কমায়
* উচ্চরক্তচাপ কমায়
* ব্যায়াম দুশ্চিন্তা দূর করে মনকে সতেজ প্রফুল্ল রাখে।
* ঘুম ভালো হয়
* হাড় হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে।
* জয়েন্ট সচল রাখে।
* বৃদ্ধ বয়সে হাড়ভাঙার প্রধান কারণ অস্টিওপোরসিস বা হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া বিশেষ করে মহিলাদের হিপ ফ্রাকচার কারণে হয়। ব্যায়াম অস্টিওপোরসিস কমায়।
* ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের একই বয়সের লোকদের থেকে কম বয়স্ক দেখায়।
* নিয়মিত ব্যায়াম যৌন ক্ষমতা অটুট রাখে।
* ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধেও উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস দেরিতে হবে অথবা নাও হতে পারে।
ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীরা কী ধরনের ব্যায়াম করবেন
* এরোবিক ব্যায়াম
* স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
* স্ট্রেচিং ব্যায়াম
* ব্যালান্সিং ব্যায়াম
এরোবিক ব্যায়াম
সাধারণভাবে ব্যায়াম বলতে যেগুলোকে বোঝায় তা হল এরোবিক বায়াম।
যেমন- হাঁটা, দৌড়ানো, জগিং, বাই সাইকেল চালান,সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এই ব্যায়ামে শরীরের অনেক মাংশপেশি অনেকক্ষণ ধরে কাজ করে ফলে শক্তি ক্ষয় হয়। ব্যায়ামে নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়বে।
স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
স্ট্রেংথ মানে শক্তি। মাংশপেশির শক্তি বাড়ানোর জন্য ধরনের ব্যায়াম। ব্যায়ামে কাজ করতে হয় বেশি যেমন ওজন তোলা বা স্প্রিং টানা ইত্যাদি।


স্ট্রেচিং ব্যায়াম
মাংশপেশি এবং গিটের জড়তা কাটিয়ে সচল করাই হল ব্যায়ামের উদ্দেশ্য। এরোবিক ব্যায়াম শুরু করার আগে স্ট্রেচিং করা উচিত।
ব্যালান্সিং ব্যায়াম
ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ব্যায়াম। যেমন এক পায়ের ওপর দাঁড়ানো। ব্যায়াম চলাচল করতে সাহায্য করে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করে।
সপ্তাহে কয়দিন কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন
সপ্তাহের অধিকাংশ দিন (কমপক্ষে দিন) এবং দিনে ৩০ মিনিট এরোবিক ব্যায়াম অধিকাংশ সুফল বয়ে আনে। এক নাগাড়ে ৩০ মিনিট ব্যায়াম না করতে পারলে ১০ মিনিট করে দিনে বার ব্যায়াম করলেও হবে। প্রতিদিন বার খাওয়ার আগে ১০ মিনিট করে ব্যায়াম একটা সুবিধাজনক ব্যায়াম।
ব্যায়াম করার কোনো নিয়মাবলী আছে কি
ব্যায়াম শুরু করতে কোনো সমস্যা নেই তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কোনো জটিলতা আছে কিনা তার জন্য ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া ভালো।
অল্প ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াবেন। প্রতিদিন মিনিট করে বাড়িয়ে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট করে ব্যায়াম করা আপনার লক্ষ্য থাকবে।
ব্যায়াম শুরুতে কিছুক্ষণ অল্প ব্যায়াম করে নেবেন যেটা হলওয়ার্ম আপসঙ্গে কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম এবং শেষ করার সময় হঠাৎ করে থেমে যবেন না শেষ মিনিট আস্তে আস্তে কমিয়ে ব্যায়াম করা থামাবেন যেটা হলকুল ডাউন
যত বেশি ব্যায়াম করবেন তত বেশি শক্তি ক্ষয় হবে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা তত সহজ হবে। এরোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম করতে হবে সপ্তাহে - দিন। এটা হতে পারে ওজন ওঠা-নামানো বা স্প্রিং টানা।
ব্যায়াম শুরুর আগে কি কি বিষয় ঠিক করে নেওয়া উচিত:
* কী ব্যায়াম করবেন
* কতক্ষণ করবেন
* কতবার করবেন
* কখন করবেন
* কী ধরনের পোশাক, জুতা পরবেন।
* ব্যায়াম না করতে পারলে অন্য কী ব্যায়াম করতে পারেন।
* কীভাবে ব্যায়াম বাড়াবেন।
* কতদূর যাবেন।
কখন ব্যায়াম করবেন না
এটা নির্ভর করবে আপনার দৈনন্দিন কাজ, খাবারের সময়, ডায়াবেটিসের জন্য কখন কি ওষুধ খাচ্ছেন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ইত্যাদির ওপর।
* খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৩০০ মিগ্রা বা খালি পেটে ২৫০ মিগ্রা এর ওপর থাকলে ব্যায়াম করবেন না।
* খাওয়ার পরপর ব্যায়াম করবেন না।
* আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে তাপমাত্রাও মাথায় রাখার বিষয়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ব্যায়াম করবেন না কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রাতে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেই জন্য ভোর বা সন্ধ্যাতে ব্যায়াম করাই উত্তম।
(সংগৃহীত)


Comments

Popular posts from this blog

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসঃ সুবিধা ও অসুবিধা

খনিজ কি? খনিজের বৈশিষ্ট্য লেখ?

বিশ্বায়ন/আন্তর্জাতিকরণ/Globalization / Internationalization কী?