ডায়াবেটিস / Diabetic পরীক্ষা / Checkup

ডায়াবেটিস পরীক্ষা / Diabetic Checkup 


সুগারের মাত্রা কত হলে বুঝবেন ডায়াবেটিস আছে ?

ডায়াবেটিস রোগটি এখন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৪০ পেরুলেই যে কারো এই রোগে পেয়ে বসতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
রক্তে চিনির মাত্রা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা যায়। ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা করে ঘরে বসে গ্লুকোমিটার ব্যবহার করে নির্ণয় করা যায়।
আপনি যদি রাতে স্বাভাবিক খাবার খেয়ে সকালে খালি পেটে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে রক্তে চিনির মাত্রা . মিলিমোলের চেয়ে কম পান তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার একটুও ডায়াবেটিস নেই। কিন্তু যদি চিনির মাত্রা . এর বেশি অথচ . মিলিমোলের কম হয় তাহলে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার বেশ ঝুঁকি আছে। এটাকে বর্ডার লাইন বা মার্জিন পয়েন্ট বলে। তাই এটাকে বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস বলে ধরা হয়। এছাড়া রক্তে যদি চিনির মাত্রা . মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিসে
আক্রান্ত বলে মনে করা যায়। তবে শুধু খালিপেটে পরীক্ষাটিই ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। খালিপেটে নির্ণয়ের পর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে গুলে খেয়ে দুই ঘণ্টা পর রক্তে আবার চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। ক্ষেত্রে যদি চিনির মাত্রা . মিলিমোল বা তার থেকে কম হয়, তবে ডায়াবেটিস নেই। যদি . এর বেশি, কিন্তু ১১ মিলিমোল বা তার চেয়ে কম হয়, তবে বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস বলে ধরে নেয়া যায়। আর যদি চিনির মাত্রা ১১ মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত বলে ধরে নিতে হয়। এক্ষেত্র ডাক্তার কে সরাসরিভাবে বলা ভালো হয় ,
খালি পেটে বা খাবারের আগে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Fasting Blood Glucose) : পরীক্ষাটি সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে করতে হয়। পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা . মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। * খাবারের ঘণ্টা পর রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (2 Hour After Breakfast) : পরীক্ষাটি নাস্তা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। * যে কোনো সময় রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Random) : পরীক্ষাটি দিনের যে কোনো সময় করা যেতে পারে। ওই পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা . থেকে ১১. মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত ধরা হয়। * ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT) : যাদের খালি পেটে FBG
. এর বেশি কিন্তু . মিলি মোল/লিটারের কম কিংবা দিনের যে কোনো সময় . এর বেশি কিন্তু ১১. মিলি মোল/লিটারের কম, তাদের পরীক্ষাটি করা খুবই জরুরি। কারণ পরীক্ষাটির মাধ্যমে কারও ডায়াবেটিস আছে কি নেই সে ব্যাপারে নিশ্চত হওয়া যাবে। পরীক্ষাটির জন্য রোগীকে প্রথমে খালি পেটে রক্ত দিতে হবে। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এবং ঠিক দুই ঘণ্টা পর রোগীকে আবার রক্ত দিতে হবে। এই দুই ঘণ্টা রোগী অন্য কোনো খাবার খেতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের কাজও করতে পারবেন না। ধূমপান করা যাবে না। পরীক্ষায় যে রোগীর খালি পেটে . মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি এবং দুই ঘণ্টা পর ১১. মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি হলে তাকে নিশ্চিত ডায়াবেটিসের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। নিয়ম হলো একজন সুস্থ-সবল মানুষ প্রতি বছর একবার করে তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাটি জেনে নেবেন। এতে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা তা জানতে পারবেন। অনেকে রয়েছেন, তারা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; কিন্তু জানেনই না তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর রকমটি হলে এটি যে কোনো সময় আপনার জীবনের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আজই যে কোনো ডায়াবেটিস সেন্টারে গিয়ে আপনার রক্তের গ্লুকোজের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন সুস্থ দেহে নিরাপদ
নিজেই যদি ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে চান তবে জেনে নিন কয়েকটি পন্থা।

হাসপাতাল কিংবা ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো বেশ ঝক্কির কাজ হতে পারে। বিশেষ করে কোন পরীক্ষাটি খালি পেটে করতে হবে, পরীক্ষার আগে কতক্ষণ না খেয়ে থাকতে হবে, আবার দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া ইত্যাদির প্রস্তুতি নেওয়া বিশেষ জরুরি।
এগুলো ছাড়াও পরীক্ষার সঠিক ফলাফল পেতে কিছু বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে।
বিষয়ে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগের পরামর্শদাতা ডা. কামরুল হাসান (বিসিএস স্বাস্থ্য)

ওয়ান সি পরীক্ষা (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন): 

এই পরীক্ষার জন্য খালি পেটে থাকার প্রয়োজন হয় না এবং বিগত তিন মাসে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা জানা যায় এই পরীক্ষা থেকে। রক্তের হিমোগ্লোবিনয়ে কত শতাংশ শর্করা জুড়ে আছে এবং লোহিত রক্তকণিকায় অক্সিজেনবাহী প্রোটিন কী মাত্রায় আছে তা নির্ণয় করে পরীক্ষাটি।
রক্তে শর্করা যত বেশি হবে, হিমোগ্লোবিনয়ের সঙ্গে ততই বেশি মাত্রায় শর্করা জুড়ে থাকবে। সাধারণত, এওয়ানসি মাত্রা যদি পরপর দুই পরীক্ষায় . বা তারও বেশি থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। এওয়ানসিয়ের মাত্রা . থেকে . এর মধ্যে থাকে তবে আপনি প্রিডায়াবেটিক আর . এর নিচে হলে তা স্বাভাবিক।
তবে আপনি যদি গর্ভবতী হন কিংবা আপনার হিমোগ্লোবিনয়ের ধরন যদি ভিন্ন হয়, যাকে বলা হয় হিমোগ্লোবিন ভ্যারিয়েন্ট, তাহলে এই পরীক্ষার ফল ভুল আসতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনাকে আরও কিছু পরীক্ষা করাতে বলবেন।

ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ (এফপিজি) পরীক্ষা: 

এই পরীক্ষা খালি পেটে করতে হয়, যার কারণে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কীভাবে এটি করতে হবে। সঠিক উপায় হল সারারাত বা আট থেকে ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর এই পরীক্ষা করাতে হবে। ১০০ এমজি/ডিএল হল স্বাভাবিক ফলাফল। ১০০ থেকে ১২৫ এমজি/ডিএল হল প্রিডায়াবেটিক এবং ১২৬ এমজি/ডিএল মানে হল আপনার ডায়াবেটিস হয়ে গেছে।

পোস্টপ্রান্ডিয়াল গ্লুকোজ: 

সকালের নাস্তা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে এই পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে সকালের নাস্তায় মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাবার খায়, অনেকে আবার পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক আসবে এমন খাবার বেছে নিয়ে খান। তাই সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য সকালের নাস্তায় ৭৫ গ্রাম শর্করা খাওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শরীর শর্করাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা দেখাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
ফলাফল ১৪০ এমজি/ডিএল এর বেশি হলে তা অস্বাভাবিক। নিজের ইচ্ছে মতো সকালের নাস্তা খেলে এমন খাবার খান যা আপনি প্রায় প্রতিদিনই খান, কোনো পরিবর্তন আনবেন না।

ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স: 

এই পরীক্ষা করা হয় দুই ধাপে। প্রথম ধাপে সারারাত না খেয়ে থাকার পর সকালে প্রথম রক্তের নমুনা নেওয়া হবে ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরিমাপের জন্য। এরপর চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ানো হবে এবং দুই ঘণ্টা পর আবার রক্তের নমুনা নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করা হবে। পরীক্ষায় টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ধরা পড়লে মূত্র পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন চিকিৎসক।
শর্করা ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন না থাকার কারণে শরীর পেশি চর্বি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, আর এই প্রক্রিয়ার কারণে মূত্রের সঙ্গে কোনো উপজাত দ্রব্য আসছে কিনা সেটা জানার জন্যই মূত্র পরীক্ষা করা হয়।

ঘরে পরীক্ষা

এজন্য প্রয়োজন হবে গ্লুকোমিটার নামক একটি যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে সঠিক ফলাফল পেতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হবে।
- হাত ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
- যন্ত্রে টেস্ট স্ট্রিপ প্রবেশ করাতে হবে।
- আঙ্গুলের ডগায় টেস্ট কিটয়ের সুঁই দিয়ে ফুটো করতে হবে।
- এবার আঙ্গুলে সামান্য চাপ দিয়ে এক ফোঁটা রক্ত টেস্ট স্ট্রিপয়ের উপর ফেলতে হবে।
- আঙ্গুলে থাকা রক্তে টেস্ট স্ট্রিপটি স্পর্শ করালেও কাজ হবে। কয়েক সেকেন্ড পরেই যন্ত্রটি ফলাফল দেখাবে।

Comments

Popular posts from this blog

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসঃ সুবিধা ও অসুবিধা

খনিজ কি? খনিজের বৈশিষ্ট্য লেখ?

বিশ্বায়ন/আন্তর্জাতিকরণ/Globalization / Internationalization কী?