মুখের ঘা/শীতে মুখের ঘা রোধ করুন

শীতে মুখের ঘা রোধ করুন 



শীতে প্রায় লোকেরই মুখে ঘা দেখা যায়। যা কথা বলা থেকে শুরু করে খাবার-দাবারে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেকেই একে সিজনাল সমস্যা হিসেবে দেখেন। অনেকেই ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে থেমে যান। বড়জোর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে এ সমস্যার সমাধান সামনে নিয়ে এসেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

মুখের ঘায়ের চিকিৎসা করতে অভিনব জীবাণু ধ্বংসকারী (বায়োডিগ্রেডেবল) প্রলেপ (প্যাচ) উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রলেপ মুখের ভেতর প্লাস্টার বা উপলেপনের মতো কাজ করে এবং মুখের ভেতর এঁটে থাকে। এভাবেই তা মুখের ঘায়ের চিকিৎসায় সাহায্য করে।
এই জীবাণু ধ্বংসকারী প্রলেপ আর্দ্র পিঠে এঁটে থাকতে পারে। এটি সরাসরি সফলভাবে মুখের ঘায়ে স্টেরয়েড অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে। প্রলেপটি মুখের ঘায়ের ক্ষত থাকাকালীন ক্ষতের চতুর্দিকে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। এভাবে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।


গবেষকরা বলছেন, ‘এই প্রলেপের দীর্ঘসময় এঁটে থাকার সক্ষমতা ও উচ্চ নমনীয়তা রয়েছে। তাই এটি মুখ গহ্বরের ভেতর আর্দ্র পিঠে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে।’
বায়োমেটেরিয়ালস জার্নালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান লেখক ইংল্যান্ডের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ক্লিনিক্যাল ডেন্টিস্ট্রির ক্রেইগ মার্ডক বলেন, ‘এই প্রলেপ মুখ গহ্বরের ভেতর প্লাস্টারের মতো কাজ করে। যার ফলে এটি সরাসরি কোন নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে। ঘায়ের চতুর্দিকে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।’
আইএএনএসের বরাত দিয়ে দ্য ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্টেরয়েডসমূহ মাউথওয়াশ, ক্রিম অথবা অয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে দেয়া হয়। কিন্তু এসব প্রায়ই মুখের ঘায়ের সাথে পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে না। তাই রোগ সারতে দেরি হয়।


এই প্রলেপ মুখ গহ্বরের ভেতর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে (মিউকোসা) উদ্ভুত প্রদাহ চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে। যেমন- ওরাল লাইকেন প্ল্যানাস (ওএলপি) এবং রিকারেন্ট (পুনঃসঙ্ঘটনশীল) এপথাস স্টোমাটাইটিস (আরএএস), যা এপথাস আলসার নামেও পরিচিত।
ক্রেইগ মার্ডক বলেন, ‘মুখের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা, যেমন- ওএলপি এবং আরএএস যা ক্ষয়কারক বেদনাদায়ক ক্ষত। এসব জীবন মানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। রোগীরা এই প্রলেপ মুখের ভেতর লাগাতে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এর দীর্ঘসময় এঁটে থাকার কারণে যখন কার্যকর ফল লাভ করেন; তখন খুব পরিতৃপ্ত হন।’

কীভাবে সাবধানে থাকবেন-
১. মুখে আঘাতের বিষয়ে সাবধানে থাকবেন। দাঁত ব্রাশের সময় সতর্ক থাকবেন। দাঁত আঁকাবাঁকা থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।
২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙা থাকার চেষ্টা করবেন।
কী করবেন ঘা হলে-
যষ্টিমধু
যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন। উপকার পাবেন।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরার রস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ক্ষত কমিয়ে দিতে পারে।
নারকেল দুধ
এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিনে তিন থেকে চারবার ঘায়ের জায়গায় লাগান। মধু ছাড়া শুধু নারকেলের দুধ দিয়েও ক্ষত স্থানে মালিশ করতে পারেন। এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।
তুলসি
কয়েকটি তুলসি পাতাসহ পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করে দেবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।
টি ব্যাগ
দ্রুত ব্যথা এবং জ্বালা দূর করতে টি ব্যাগ খুবই কার্যকর। একটি টি ব্যাগ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের জায়গায় লাগান। ব্যথা এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।
বরফ বা ঠাণ্ডা পানি
মুখের ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন, এটি মুখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
লবঙ্গের রস
এক টুকরা লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখুন বা লবঙ্গের রস দিয়ে ক্ষত স্থানটিতে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।


ধন্যবাদ।

দিগন্ত কুমার রায়

(প্রভাষক)
গাজীপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
গাজীপুর সদর, গাজীপুর।

Comments

Popular posts from this blog

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসঃ সুবিধা ও অসুবিধা

খনিজ কি? খনিজের বৈশিষ্ট্য লেখ?

বিশ্বায়ন/আন্তর্জাতিকরণ/Globalization / Internationalization কী?